Bcs Boss Education blog

We are Your Helping Hand to Get the Jobs
Menu
  • Home
  • About us
  • Contact us
  • Privacy Policy
  • Disclaimer
  • Terms and Conditions of bcsboss.com
Home
সরকারি চাকরি
যুদ্ধাপরাধ এর সংজ্ঞা | কিভাবে বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয় 2024
সরকারি চাকরি

যুদ্ধাপরাধ এর সংজ্ঞা | কিভাবে বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয় 2024

bcsboss editor January 30, 2024

আজকের পোস্টে আমি আপনাদের জন্য যুদ্ধাপরাধ এর সংজ্ঞা এবং  কিভাবে বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয় এ বিষয়ে আলোকপাত করব। যুদ্ধাপরাধ মানবতাবিরোধী এক ঘৃণ্য অপরাধ। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এ বিষয়টি আরো স্পর্শকাতর। কারণ চির সবুজের দেশ বাংলার নিরীহ, নিরস্ত্র, শান্তিপ্রিয় মানুষ মুক্তিযুদ্ধকালীন সুপরিকল্পিতভাবে গণহ ত্যাযজ্ঞের অসহায় শিকার হয়েছিল। সর্বাধুনিক মারণাস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সাড়ে সাত কোটি মানুষের উপর হিংস্র হায়েনার মত ঝাঁপিয়ে পড়েছিল পশ্চিম পাকিস্তানি ষড়যন্ত্রকারীরা, সৈন্যরা, পশুরা। তাদেরকে সহায়তা করেছিল এ দেশীয় কতিপয় অমানুষ।

তাই স্বাধীনতা-পরবর্তী যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিষয়টি প্রশাসনিকভাবেই অনিবার্য হয়ে পড়ে। কিন্তু স্বাধীনতা-পরবর্তী ৪৩ বছরেও সকল যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকার্য সম্পাদন করা সম্ভব হয়নি। এহেন প্রেক্ষিতে যুদ্ধাপরাধীদের জঘন্য অপরাধের শাস্তি নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার এক মহান উদ্যোগ গ্রহণ করে। এ উদ্যোগের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে সাম্প্রতিক সময়ে কতিপয় চিহ্নিত ও স্বঘোষিত যুদ্ধাপরাধীকে আইনের হাতে সোপর্দ করে এবং বিচার প্রক্রিয়ার আওতায় নিয়ে আসে।

যুদ্ধাপরাধ এর সংজ্ঞা | কিভাবে বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়

যুদ্ধাপরাধ এর সংজ্ঞা | কিভাবে বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়

যুদ্ধাপরাধ এর সংজ্ঞা:

যুদ্ধাপরাধ বলতে কোনো দেশ, জাতি, সামরিক বা বেসামরিক ব্যক্তি কর্তৃক যুদ্ধের প্রথা বা আন্তর্জাতিক নীতিমালা লঙ্ঘন করাকে বোঝায়।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস থেকে প্রকাশিত ‘দ্য ব্ল‍্যাক বুক অফ কমিউনিজম ক্রাইম, টেরর, রিপ্রেশান’ গ্রন্থে যুদ্ধাপরাধের সাংজ্ঞিক অর্থ ‘যুদ্ধের আইন বা প্রথাকে লঙ্ঘন করা’ বলতে হ-ত্যা, নির্যাতন বা সাধারণ নাগরিকদের নির্বাসিত করে অধিকৃত জনপদে ক্রীতদাস শ্রম ক্যাম্পে পরিণত করা, আটককৃতদের হ-ত্যা ও নির্যাতন, অপহৃতদের হ-ত্যা, সামরিক বা বেসামরিক প্রয়োজনীয়তা ছাড়াই দায়িত্বজ্ঞানহীন নগর, শহর ও গ্রামাঞ্চলকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করাকে উল্লেখ করা হয়।

আরো পড়ুন: হরতাল কেন হয় | হরতালের বৈশিষ্ট্য | ইস্যুসমূহ | নেতিবাচক দিক

চতুর্থ জেনেভা কনভেনশনের ১৪৭ ধারায় যুদ্ধাপরাধ প্রসঙ্গে বলা হয় ইচ্ছাকৃতভাবে হ-ত্যা, নির্যাতন বা অমানবিক ব্যবহার এবং কারো শরীর বা স্বাস্থ্যে গুরুতর আঘাত করা বা তার দুর্দশার কারণ তৈরি, অন্যায়ভাবে কাউকে বিতাড়ন বা স্থানান্তর করা বা আটক করা, শত্রুবাহিনীর সেবাদানে বাধ্য করা, যথাযথ ও নিয়মতান্ত্রিক বিচার পাওয়ার অধিকার থেকে কাউকে ইচ্ছাকৃতভাবে বঞ্চিত করা, কাউকে জিম্মি করা, বিপুল পরিমাণে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো ও সম্পত্তি আত্মসাৎ করা, সামরিক প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও বেআইনি ও নীতিবিরুদ্ধ ওপরের যে কোনো

এক বা একাধিক কর্মকাণ্ড যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। যুদ্ধাপরাধের ধারণার মর্মমূলে ছিল যে, একটি দেশের বা দেশের সৈন্যদের কাজের জন্য একজন ব্যক্তিও দায়ী হতে পারেন। গণহ-ত্যা, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ, সাধারণ নাগরিকদের হয়রানি- এসবই যুদ্ধাপরাধের মধ্যে পড়ে। এসবের মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর হলো গণহ-ত্যা। সুতরাং যুদ্ধাপরাধ হচ্ছে কোনো যুদ্ধ বা সামরিক সংঘাত চলাকালীন সময়ে কোনো ব্যক্তি কর্তৃক

বেসামরিক জনগণের বিরুদ্ধে সংগঠিত, সমর্থিত নির্দিষ্ট সংজ্ঞায়িত অপরাধ কর্মকাণ্ডসমূহ।

বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের সাথে জড়িত সংগঠন কারা?

বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের সাথে জড়িত অনেক সংগঠন রয়েছে। যেমন:

১. শান্তি কমিটি:

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তান প্রশাসনকে সহযোগিতা করার লক্ষ্যে ১০ এপ্রিল তারিখে ঢাকায় শান্তি কমিটি গঠিত হয়। শান্তি কমিটি গঠনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীকে সহায়তা করা এবং দেশকে বিচ্ছিন্নতা থেকে রক্ষা করে পাকিস্তানি হুকুমত বজায় রাখা। ক্রমান্বয়ে সারাদেশে শান্তি কমিটি গঠিত হয়। স্বাধীনতা বিরোধী রাজনৈতিক নেতা ও কর্মীরা এসব কমিটি গঠন করে মুক্তিযুদ্ধের সময় হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীকে সহযোগিতা করে।

পড়তে পারেন: ৪১ তম বিসিএস বাংলা প্রশ্ন সমাধান ব্যাখ্যাসহ বিস্তারিত

২. রাজাকার বাহিনী:

১৯৭১ সালের মে মাসে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সামরিক সরকার তাদের সহায়ক শক্তি হিসেবে ‘রাজাকার’ নামে একটি আধা-সামরিক বাহিনী গড়ে তোলে। এই বাহিনীর মোট সদস্য সংখ্যা ছিল পঞ্চাশ হাজার। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর প্রধান সহযোগী হিসেবে এই বাহিনী দায়িত্ব পালন করে। বিশেষ করে গ্রাম অঞ্চলে এই বাহিনীর অত্যাচারের চিহ্ন আজো বিদ্যমান।

৩. আল-বদর বাহিনী:

১৯৭১ সালের আগস্ট মাসে ময়মনসিংহে এই বাহিনী গঠিত হয়। সম্পূর্ণ ধর্মীয় আদর্শের উপর ভিত্তি করে এই বাহিনীর গঠন ও কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বাঙালি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী বিশেষ ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে এই বাহিনীকে ব্যবহার করা হয়। আল-বদর বাহিনীর কার্যকলাপের মধ্যে বুদ্ধিজীবী হ-ত্যাকাণ্ড অন্যতম। মিরপুর বধ্যভূমি এই বাহিনীর হ-ত্যাযজ্ঞের সাক্ষ্য বহন করে।

৪. আল-শাম্স বাহিনী:

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সহযোগী স্বাধীনতা-বিরোধী এক শ্রেণীর ধর্মান্ধ ও শিক্ষিত তরুণ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় ও ধর্মান্ধ রাজনৈতিক দলের উদ্যোগে আল-শামস বাহিনী গঠন করে। আল বদর বাহিনীর সঙ্গে মিশে এরা দেশের স্বাধীনতাকামী ব্যক্তিদের এবং স্বাধীনতা লাভের পূর্বক্ষণে বুদ্ধিজীবীদের নির্মমভাবে হ-ত্যা করে।

বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের প্রকৃতি:

বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের প্রকৃতি খুবই ভয়াবহ ও লোমহর্ষক। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালে পাকিস্তানি সশস্ত্র হায়েনা বাহিনী তাদের এদেশীয় কুচক্রী মহল নিয়ে দেশের অভ্যন্তরে হ-ত্যা, লুট, ধর্ষণ, অগ্নিকাণ্ড ও বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক তাণ্ডবলীলা চালায়। এরা নির্বিচারে গণহ-ত্যা, গণধর্ষণ, লুন্ঠন ও অগ্নিসংযোগে অংশ নেয়। ভয়াল দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ৩০ লাখ মুক্তিকামী বাঙালি শাহাদতবরণ করে, সম্ভ্রম হারায় ২ লাখ মা-বোন। উপরিউক্ত দিকগুলো ছাড়াও বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধের উল্লেখযোগ্য কিছু প্রকৃতি তুলে ধরা হলো:

১. আইনভঙ্গ:

আইনভঙ্গ, সনদ ও চুক্তিপত্র অমান্য মুক্তিযুদ্ধকালে বর্বর পাকিস্তানিরা আইনভঙ্গ, সনদ ও চুক্তিপত্র অমান্যের সর্বকালের রেকর্ড ভঙ্গ করে। এ সময় ইয়াহিয়া খান ও তার সাঙ্গোপাঙ্গরা বিমান ও নৌবাহিনী ব্যবহারের সংশ্লিষ্ট সকল আইন ভঙ্গ, জাতিসংঘের সনদ পদদলিত, ১৯৪৮ সালের গণহ-ত্যা চুক্তিসভাপত্র অমান্য, ১৯৪৯ সালের চারটি চুক্তিসভাপত্রও অগ্রাহ্য, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক নয় এমন এক সশস্ত্র সংঘর্ষকালে যে সকল নিয়ম মানতে প্রতিটি রাষ্ট্র বাধ্য তা অমান্য, নিরাপরাধ লোকের অধিকার হরণ, সংঘর্ষকালে ত্রাণকার্য সম্পর্কিত আইনকানুন অগ্রাহা এবং সংস্কৃতি সংরক্ষণ সম্পর্কিত আইনও তারা ভঙ্গ করেছে।

২. হ-ত্যা ও সম্পত্তি বিনষ্ট:

পাকিস্তানিরা জাতিগত, জাতীয়তাগত, ভাষাগত, ধর্মগত, সংস্কৃতিগত, গোত্রগত, ভেদনীতি গ্রহণ করে অসামরিক নর-নারীকে হ-ত্যা, অসামরিক জনসাধারণের সম্পত্তি বিনষ্ট এবং একটি জাতির সকল অস্তিত্ব ধ্বংসের হীন প্রচেষ্টা চালিয়েছে। আর তাদের এ প্রচেষ্টায় সহায়তা করেছে এদেশীয় ঘৃণ্য দোসররা।

৩. বিদেশী পত্রিকার প্রতিবেদন:

বিদেশী পত্রিকার প্রতিবেদন ও প্রতিবেদকের মন্তব্যে ধ্বংসযজ্ঞ ১৯৭১ সালে সংঘটিত মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহ প্রকৃতি শুধুমাত্র দেশীয় পত্রিকার মাঝে সীমাবদ্ধ ছিল না বরং দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বের নাম করা পত্রিকাগুলোর সচিত্র প্রতিবেদন ও প্রতিবেদকের মন্তব্যে চিত্র ফুটে উঠেছে। নিচে এমন কয়েকটি পত্রিকার প্রতিবেদন ও প্রতিবেদকের মন্তব্য উল্লেখ করা হলো-

আরো দেখুন: ৪০ তম বিসিএস প্রিলিমিনারি বাংলার প্রশ্ন ব্যাখ্যাসহ বিশ্লেষণ

ক. টাইমস্ অফ ইন্ডিয়া:

আমেরিকান এইড (AID) কার্যসূচির অধীনে ৩ বছর ঢাকায় ছিলেন জন রোড নামক জনৈক আমেরিকান কর্মকর্তা। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে বৈদেশিক সম্পর্ক কমিটির সামনে যে জবানবন্দী দেন (টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ২ মে ১৯৭১) তাতে তিনি বলেন যে, পূর্ব বাংলায় জঙ্গলের আইন চালু রয়েছে। সুপরিকল্পিত উপায়ে নিরস্ত্র বেসামরিক জনসাধারণ, বুদ্ধিজীবী হিন্দুদের হ-ত্যা করা হচ্ছে। তিনি ২৯ মার্চ ১৯৭১ রমনা কালীবাড়ি পরিদর্শন করে দেখেন যে, সেখানে ২০০ থেকে ৩০০ লোক হ-ত্যা করা হয়েছে। মেশিনগানের গুলি খেয়ে, আগুনে পুড়ে নর-নারী ও শিশুদের মৃতদেহ পড়ে আছে। সকল জায়গা ধূলিসাৎ করে দেয়া হয়।

খ. নিউইয়র্ক টাইমস্:

নিউইয়র্ক টাইমস্ ৩০ মার্চ ১৯৭১ সালে প্রদত্ত রিপোর্টে উল্লেখ করে, সর্বত্র বেসামরিক ব্যক্তিদের সেনাবাহিনী হ-ত্যা করেছে।

গ. টাইম:

৩ মে ১৯৭১ নিউইয়র্কের সাপ্তাহিক টাইম পত্রিকায় উল্লেখ করা হয়, একজন যুবক সৈন্যদের কাছে আকুল প্রার্থনা জানায় তাকে যা কিছু করা হোক না কেন, তার ১৭ বছরের বোনটিকে যেন রেহাই দেয়া হয়। তার সামনেই বেয়নেট দিয়ে বোনটিকে হ-ত্যা করে পশুরা।

ঘ. ল্য এক্সপ্রেস পত্রিকার প্রতিবেদকের মন্তব্য:

ফ্রান্সের ‘ল্য এক্সপ্রেস’ পত্রিকার সাংবাদিক তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা দেন এভাবে, ‘প্রতি রাতেই আমি মেশিনগান ও মর্টারের গুলির শব্দ শুনতাম। বাঙালিদের তাড়িয়ে তাড়িয়ে ধরতো সৈন্যরা, তারপর যানবাহনের পেছনে এমনভাবে বেঁধে দিত যাতে তাদের মাথা মাটিতে বারবার এসে আঘাত হানে।’

ঙ. সানডে টাইমস:

সানডে টাইমস পত্রিকায় পাকিস্তানস্থ প্রতিনিধি (১৩ জুন ১৯৭১ সংখ্যা) জানিয়েছেন যে, ‘পুরান ঢাকায় কয়েকটি এলাকা নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার সময় সান্ধ্য আইনের সময় যে শত শত মুসলমানদের পাকড়াও করা হয়েছিল তাদেরও কোনো চিহ্ন পরবর্তীতে আর মেলেনি।’ ১৫ এপ্রিল ১৯৭১ তিনি ঢাকায় ঘোরার সময় দেখেছেন যে, ‘ইকবাল হলের (বর্তমান জহুরুল হক হল) দুটি সিঁড়িতে প্রচুর রক্ত তখনও ছড়িয়ে আছে এবং হলের ছাদে চারজন ছাত্রের মাথা তখনও পচছে। দেয়ালে গুলির দাগ এবং রীতিমত ডিডিটি পাউডার ছড়িয়ে দেয়া সত্ত্বেও চারদিকে দুর্গন্ধ। মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ২৩ জন মহিলা ও শিশুর পচা লাশ সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।’

চ. সানডে টেলিগ্রাফ:

লন্ডনের সানডে টেলিগ্রাফ পত্রিকা ৪ এপ্রিল ১৯৭১ পাকিস্তানি কুচক্রীদের মানসিকতা ও ষড়যন্ত্র সম্পর্কে বিস্তৃত আলোচনা ও মন্তব্যে লেখে, ‘গত সপ্তাহে পশ্চিম পাকিস্তানি সেনাবাহিনী নৃশংসভাবে গণপ্রজাতান্ত্রী বাংলাদেশ হিসেবে আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকামী পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতা আন্দোলনের জীবনীশক্তি নিঃশেষ করা ছাড়া আর সবই করেছে। পাকিস্তানের জেনারেল ও কর্নের্লরা খুব সাবধানে দু’বছর ধরে যে পরিকল্পনা করেছে তারই ফল এই নৃশংসতা। তাদের অনেকেই ব্রিটিশদের হাতে ট্রেনিংপ্রাপ্ত, অনেকেই চারিত্রিক নম্রতায় না হলেও বাহ্যিক ব্যবহারে ‘ব্রিটিশদের চাইতেও ব্রিটিশ’।’

৪. শীর্ষ পাঁচ যুদ্ধাপরাধ:

১৯৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা বাংলাদেশে ১৭ ধরনের যুদ্ধাপরাধ, ১৩ ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং ৪ ধরনের গণহ-ত্যাজনিত অপরাধসহ মোট ৫৩ ধরনের অপরাধে লিপ্ত ছিল। এ প্রসঙ্গে শীর্ষ পাঁচ যুদ্ধাপরাধ হলো-

  • (i) ১৯৭১ সালের ২৫ ও ২৬ মার্চ ঢাকায় ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে সেনা অভিযানে নির্বিচারে ৫০ হাজার বাঙালি নিধন। যুদ্ধকালীন সর্বমোট ৩০ লাখ বাঙালিকে নৃশংসভাবে হ-ত্যা।
  • (ii) লুণ্ঠন, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ ও দেশজুড়ে হ-ত্যাকাণ্ড।
  • (iii) মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে বুদ্ধিজীবী এবং বিভিন্ন পেশাজীবী যেমন চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আমলা, ছাত্র ও সমাজকর্মীদের হ-ত্যা এবং তাদের গণকবর দেয়া।
  • (iv) হাজার হাজার বাঙালি নারীকে ধর্ষণ ও নিগ্রহ।
  • (v) এদেশ থেকে হিন্দু জাতিসত্তাকে নির্মূলের জন্য হ-ত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতন।

দেশে দেশে যুদ্ধাপরাধ ও বিচার:

যুদ্ধাপরাধ একটি আন্তর্জাতিক অপরাধ। এটি এখন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের আওতায় চলে এসেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর শান্তি ও মানবতার বিরুদ্ধে যে কোনো অপরাধকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দেশে নানা আঙ্গিকে যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হয়েছে। আবার যুদ্ধাপরাধের বিচারে গঠিত হয়েছে বিভিন্ন ট্রাইব্যুনাল ও কোর্ট। নিচে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো:

১. যুদ্ধাপরাধ ও আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের ধারণা:

১৮৯৯ সালে ফিলিপাইন-আমেরিকান যুদ্ধকালীন সময়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানের উদ্দেশ্যে হল্যান্ডে আয়োজিত Hague Peace Conference-1-এ প্রথমবারের মতো Laws of war এবং War crime-গুলোকে চিহ্নিত করে তা আন্তর্জাতিক আইন হিসেবে গ্রহণ করার জন্য প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। এখানে প্রথমবারের মতো যুদ্ধাপরাধ ও আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের কনসেপ্টের সূচনা হয়েছিল।

২. উল্লেখযোগ্য ট্রাইব্যুনাল:

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুদ্ধাপরাধ নিয়ে বিশ্বের ছোট বড় দেশগুলো সোচ্চার হওয়ায় বিভিন্ন ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ন্যুরেমবার্গ ট্রাইব্যুনাল, টোকিও ট্রাইব্যুনাল, যুগোস্লাভিয়া ট্রাইব্যুনাল ও রুয়ান্ডা ট্রাইব্যুনাল। নিচে ছকের মাধ্যমে দেখানো হলো:

দেশে দেশ যুদ্ধাপরাধ ও বিচার

ট্রাইব্যুনাল

প্রতিষ্ঠাকার্যক্রম শুরু-শেষরায় প্রকাশঅভিযুক্ত

শাস্তি

নুরেমবার্গ ট্রাইব্যুনাল–১৮ অক্টোবর ১৯৪৫- 

৩১ আগস্ট ১৯৪৬

১ অক্টোবর ১৯৪৬দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানির অভিযুক্ত ২৪ সেনামৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত-১২ জন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড-৩ জন এবং কারাদণ্ড-৪ জন।
টোকিও ট্রাইব্যুনাল২০ জুলাই ১৯৪৫১৯৪৬ সালের মে/জুন মাসেনভেম্বর ১৯৪৮জাপানের ২৮ জন যুদ্ধাপরাধীমৃ-ত্যুদণ্ড ও বিভিন্ন মেয়াদে কারাদও দেয়া হয়।
যুগোস্লাভিয়া ট্রাইব্যুনাল২৫ মে ১৯৯৩-এ গঠিত এবং ১৭ নভেম্বর ১৯৯৩ প্রতিষ্ঠিত৮ নভেম্বর ১৯৯৪-চলমান–বসনিয়ার সার্ব নেতা ও সামরিক কমান্ডারগণ–
রুয়ান্ডা ট্রাইব্যুনাল৮ নভেম্বর ১৯৯৪১৯৯৭১৯৯৮রুয়ান্ডা গণহ-ত্যায় জড়িত তুতসিরা

রুয়ান্ডার সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান।

৩. আইসিসি গঠন:

বিভিন্ন দেশের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য ২০০২ সালে নেদারল্যান্ডের দি হেগ শহরে গঠন করা হয় ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্ট (আইসিসি)। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ইসরাইলসহ বেশ কয়েকটি দেশ এ আন্তর্জাতিক আদালতের বিরোধিতা করে এবং এর সাথে যে কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা রাখতে অস্বীকার করে।

৪ . বিশেষ আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা কোর্ট:

যুদ্ধাপরাধের বিচারের জন্য বিভিন্ন দেশে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় আইনের সমন্বয়ে বিশেষ আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা কোর্ট স্থাপিত হয়। যেমন- সিয়েরা লিওনের বিশেষ আদালত, লেবাননের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল, পূর্ব তিমুরে দিলি ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট, কম্বোডিয়া ট্রাইব্যুনাল ইত্যাদি।

কিভাবে বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়:

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনীর প্রায় ৯৩,০০০ সৈন্য ঢাকার রমনা রেসকোর্স (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ময়দানে ভারত ও বাংলাদেশ বাহিনীর যৌথ কমান্ডের নিকট আত্মসমর্পণ করে। আত্মসমর্পণে অন্তর্ভুক্ত ছিল পাকিস্তানের সকল আধা- সামরিক বাহিনী ও বেসামরিক সশস্ত্র বাহিনীসহ স্থল, বিমান ও নৌ বাহিনীর সকল সদস্য। আত্মসমর্পণের দলিলে আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা প্রদান করা হয় যে, আত্মসমর্পণকারী সকল ব্যক্তির সঙ্গে জেনেভা কনভেনশনের বিধান অনুযায়ী মর্যাদাপূর্ণ ও সম্মানজনক আচরণ করা হবে এবং তাদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা হবে। নিচে বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া আলোচনা করা হলো:

১. বিচারের ঘোষণা ও আইন পাস:

১০ জানুয়ারি ১৯৭২ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান থেকে দেশে আসার পর রেসকোর্স ময়দানে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ঘোষণা দেন। Bangladesh Collaborators (Special Tribunals) Order, 1972 নামে বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য প্রথম আইন পাস হয়।

২. দালাল আইন প্রয়োগ:

১৯৭২ সালের ২৪ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতির ঘোষণা দ্বারা প্রবর্তিত দালাল আইনটির প্রয়োগ শুরু হয় ফেব্রুয়ারি মাস থেকে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করার মাধ্যমে।

৩. সংশোধনী ও বিচার আরম্ভ:

১৯৭২ সালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য গঠিত আইনটির তিন দফা সংশোধনী হয়। এ আইনের অধীনে ৩৭ হাজারেরও বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং বিভিন্ন আদালতে তাদের বিচার আরম্ভ হয়।

৪. সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা:

১৯৭৩ সালের ৩০ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৮ ধরনের অপরাধে জড়িতদের বাইরে রেখে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন। এই মহামান্য রাষ্ট্রপতি ১৮ ধরনের অপরাধ ক্ষমা করতে পারেন তা হলো-

  • ১. বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালানোর চেষ্টা;
  • ২. বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালানোর ষড়যন্ত্র;
  • ৩. রাষ্ট্রদ্রোহিতা;
  • ৪. হ-ত্যা;
  • ৫. হ-ত্যার চেষ্টা;
  • ৬. অপহরণ;
  • ৭. হ-ত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণ;
  • ৮. আটক রাখার উদ্দেশ্যে অপহরণ;
  • ৯. অপহৃত ব্যক্তিকে গুম ও আটক রাখা;
  • ১০. ধর্ষণ;
  • ১১. দস্যুবৃত্তি;
  • ১২. দস্যুবৃত্তিকালে আঘাত;
  • ১৩. ডাকাতি;
  • ১৪. খুনসহ ডাকাতি;
  • ১৫. হ-ত্যা বা মারাত্মক আঘাতসহ দস্যুবৃত্তি অথবা ডাকাতি;
  • ১৬. আগুন অথবা বিস্ফোরক দ্রব্যের সাহায্যে ক্ষতিসাধন;
  • ১৭. বাড়িঘর ধ্বংসের উদ্দেশ্যে আগুন অথবা বিস্ফোরক দ্রব্য ব্যবহার;
  • ১৮. ফৌজদারি দণ্ডবিধির ৪৩৬ ধারা (আগুন অথবা বিস্ফোরক দ্রব্যের সাহায্যে কোনো জলযানের ক্ষতিসাধন) অথবা এসব কাজে উৎসাহ দান।

৫. সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার প্রভাব:

বঙ্গবন্ধু কর্তৃক সাধারণ ক্ষমা ঘোষণাকালীন কারাগারে ৩৭ হাজার ৪১ জন বন্দি ছিল। ৭৩টি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল করে তাদের বিচার কাজ চালানো হচ্ছিল। এ সাধারণ ক্ষমার আওতায় ২৫ হাজার ৭১৯ জন অভিযুক্ত ব্যক্তি ছাড়া পেয়ে যায়। সুনির্দিষ্ট অভিযোগে আটক বাকি প্রায় ১১ হাজারের যুদ্ধাপরাধী হিসেবে বিচার চলছিল। ১৯৭৩ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ২ হাজার ৮৮৪টি মামলার নিষ্পত্তি হয়। এতে মৃত্যুদণ্ড হয়েছিল ১৯ জনের, বাকিদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। মূলত দালাল আইনেই এ বিচারকার্য পরিচালনা করা হয়।

৬. যুদ্ধবন্দিদের বিচারের দাবি:

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ৯৩,০০০ আত্মসমর্পণকারী যুদ্ধবন্দিকে ভারতীয় হেফাজতে নিয়ে যাওয়া হয়। আত্মসমর্পণের পরপরই বাংলাদেশ এ পর্যায়ে ১৯৫ জন পাকিস্তানি যুদ্ধবন্দিকে যুদ্ধাপরাধ ও গণহ-ত্যার অভিযোগে বিচারের জন্য শনাক্ত করে। তবে ১৯৭২ সালের জুলাই মাসে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে সম্পাদিত সিমলা চুক্তি অনুযায়ী যুদ্ধবন্দিদের নিরাপদে পাকিস্তানে ফেরত পাঠানোর সম্ভাবনা দেখা দেয়, এ প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ১৯৫ জন যুদ্ধবন্দির বিচারের জোর দাবি জানাতে থাকে। প্রস্তাবিত বিচারের বিরুদ্ধে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক আদালতে একটি আনুষ্ঠানিক আবেদনও পেশ করে।

৭. চুক্তি স্বাক্ষর:

যুদ্ধবন্দিদের বিচারের দাবির প্রেক্ষিতে ভারত ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা ১৯৭৩ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে ইসলামাবাদ ও দিল্লিতে আরেকটি চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য পুনরায় বৈঠকে মিলিত হয়। দুই দেশের মধ্যে সম্পাদিত শেষ চুক্তি অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট গুরুতর যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ১৯৫ জন ব্যতীত বাকি সকল যুদ্ধবন্দিকে পাকিস্তানে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা চূড়ান্ত হয়।

৮. যুদ্ধবন্দিদের বিচারের দাবি প্রত্যাহার:

১৯৭৪ সালে লাহোরে ইসলামী ঐক্য সংস্থার শীর্ষ সম্মেলন এবং পাকিস্তান কর্তৃক বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানের পর তিনটি দেশ অর্থাৎ পাকিস্তান, ভারত ও বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা নয়াদিল্লিতে পুনরায় বৈঠকে মিলিত হয় এবং দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার স্বার্থে বাংলাদেশকে ১৯৫ জন যুদ্ধবন্দির বিচারের দাবি প্রত্যাহারে রাজি করানো হয়।

৯. নির্বাচনী ইশতেহারে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার:

২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সংক্রান্ত বিষয়টি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করে এবং জনগণকে এ মর্মে নির্বাচনে প্রতিশ্রুতি দেয় যে, তারা সরকার গঠন করতে পারলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাংলার এ মাটিতে নিশ্চিত করবে। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বিপুল ভোটে জয়ী হয়। এরপর সরকার গঠন করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করে, যা শেষ করার অভিপ্রায়ে। এখনো কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

১০. প্রজ্ঞাপন জারি ও সংশোধনী পাস:

মার্চ ২০১০ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনাল, তদন্ত সংস্থা ও আইনজীবী প্যানেল গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। ২০০৯ সালের ৯ জুলাই জাতীয় সংসদে ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) অ্যাক্টের সংশোধনী পাস করা হয়।

১১. ট্রাইব্যুনাল গঠন:

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ সরকার দুটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করে। নিচে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো:

(i) ট্রাইব্যুনাল-১:

আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) অ্যাক্ট ১৯৭৩-এর ১৯-এর ৬ নং সেকশনের প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ২০১০ সালের ২৫ মার্চ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ গঠন করা হয়। তখন এর চেয়ারম্যান হিসেবে ছিলেন বিচারপতি নিজামুল হক। কিন্তু স্কাইপ সংলাপের জের ধরে বিচারপতি নিজামুল হক ১১ ডিসেম্বর ২০১২ পদত্যাগ করলে ১৩ ডিসেম্বর ২০১২ ট্রাইব্যুনালের পুনর্গঠন করা হয়। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান হন- বিচারপতি এটিএম ফজলে কবির এবং সদস্য হন-বিচারপতি আনোয়ারুল হক ও বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন।

(ii) ট্রাইব্যুনাল-২:

বিচারপ্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ গঠন করা হয় ২২ মার্চ ২০১২। পুর্নগঠিত ট্রাইব্যুনাল অনুযায়ী ট্রাইব্যুনাল-২ এর বর্তমান চেয়ারম্যান হলেন- বিচারপতি ওবায়দুল হাসান এবং সদস্য বিচারপতি মোঃ শাহিনুর ইসলাম ও বিচারপতি মজিবুর রহমান মিয়া।

১২. ট্রাইব্যুনালের রায়:

এ পর্যন্ত (২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৫) ট্রাইব্যুনাল ১৭টি রায় প্রদান করেন। যুদ্ধাপরাধী ট্রাইব্যুনাল প্রথম রায় প্রকাশ করেন ২১ জানুয়ারি ২০১৩। এ ১৭টি রায়ের মাধ্যমে মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে রায় প্রদান করে ট্রাইব্যুনাল, যাদের মধ্যে ১৪ জনকে মৃত্যুদণ্ড, একজনকে যাবজ্জীবন, একজনকে ৯০ বছর এবং দুইজনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয় ট্রাইব্যুনাল। এর মধ্যে ৯ মামলার রায়ে ১০ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল-২ এবং ৮ মামলায় আট অভিযুক্তের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করে ট্রাইব্যুনাল-১।

উপসংহার:

ইতিহাসের শিক্ষা হচ্ছে- ক্ষমতাগর্বী, অন্যায়কারী সব সময়ই আত্মধ্বংসী নীতি গ্রহণ করে পৃথিবীর নিরপরাধ মানুষের দুর্দশার কারণ হয়, পরিণামে সে নিজেও ধ্বংস হয়ে যায়। হিটলারের মতো বহু অমানুষেরই শেষ পরিণতি একই। ইয়াহিয়া খানরাও ইতিহাসের হাত থেকে রক্ষা পাবে না। যেমন পায়নি তাদের এ দেশীয় দোসররা। যাদেরকে আজ স্বাধীনতার প্রায় ৪৩ বছর পর যুদ্ধাপরাধের দায়ে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়েছে। কেবল বাংলাদেশীই নয়, পাকিস্তানিসহ সকল মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের যথার্থ বিচার বাংলাদেশের মানুষ প্রত্যাশা করে।

Share
Tweet
Email
Next Article

Related Articles

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ইন্টার্নশিপের সুযোগ
২০২৪ সালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ইন্টার্নশিপের আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। এই …

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ইন্টার্নশিপের সুযোগ

সংগীত ও শারীরিক শিক্ষক নিয়োগ: প্রাথমিকে আসছে ৫১৬৬ পদের বিজ্ঞপ্তি
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংগীত ও শারীরিক শিক্ষাবিষয়ক প্রশিক্ষণ দিতে সরকারি …

সংগীত ও শারীরিক শিক্ষক নিয়োগ: প্রাথমিকে আসছে ৫১৬৬ পদের বিজ্ঞপ্তি

About The Author

bcsboss editor

Leave a Reply Cancel Reply

Recent Posts

  • Best WhatsApp Group Links 2024 Updated New Links Suggest for you
  • এক পরিবারের ৯ জনের ‘আত্মহত্যা’, শুটিং করতে গিয়ে জ্ঞান হারান ফারিণ
  • বর্তমানে কোথায় আছেন শেখ হাসিনা? আসল তথ্য জানালেন ভারতীয় কর্মকর্তারা
  • গ্যাস সংযোগ ইস্যুতে এবার যে উদ্যোগ নিল সরকার
  • মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য, স্কুল শিক্ষিকা থেকে ৫০০ কোটি টাকার মালিক!
  • ৩০০ জনকে নিয়োগ দিচ্ছে প্রাণ গ্রুপ, লাগবে না অভিজ্ঞতা
  • ১০০০ কর্মী নেবে দারাজ, বয়স ১৮ হলেই আবেদন
  • বরখাস্ত সেই ম্যাজিস্ট্রেট তাপসী তাবাসসুম
  • নি’হত আবু সাঈদকে ‘স’ন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়েছিলেন সেই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাপসী তাবাসসুম ঊর্মি
  • শ’ক্তিশালী ঘূ’র্ণিঝ’ড় ‘মিল্টন’ ধেয়ে আসছে, যখন যেখানে আ’ঘাত হানবে!
July 2026
MTWTFSS
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031 
« Nov    

Bcs Boss Education blog

We are Your Helping Hand to Get the Jobs
Copyright © 2026 Bcs Boss Education blog
Theme by MyThemeShop.com

Ad Blocker Detected

Our website is made possible by displaying online advertisements to our visitors. Please consider supporting us by disabling your ad blocker.

Refresh